শাড়িকাণ্ড ঘিরে আইনি বিরোধের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন মামলার মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি প্রকাশ ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে সম্মানহানির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও ভেলমেট-ইয়ুথ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সানায়া আনাম ওয়াফিকা চৌধুরী। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
রবিবার (৮ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল হোসেনের আদালতে মামলাটি করেন বাদী। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি প্রকাশ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে
বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় গণমাধ্যমকে জানান, এর আগে গত ২৮ অক্টোবর তানজিন তিশাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু, তিনি নোটিশের কোনো জবাব দেননি। একইসঙ্গে, ফেসবুক থেকে সংশ্লিষ্ট ছবিগুলোও সরাননি। এ কারণে রবিবার আদালতে মানহানির মামলা করা হয়েছে।
মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে বাদীর করা দুটি পৃথক মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে। এসব মামলা করার পর প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে গত ২৭ অক্টোবর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে বাদীকে নিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য ছড়াতে থাকেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি বাদীর বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য গণমাধ্যমের কাছে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরো বলা হয়, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর তানজিন তিশা তার ফেসবুক মেসেঞ্জার থেকে বাদীর মেসেঞ্জারে কল করে তাকে ভাইরাল করার হুমকি দেন। এ সময় অভিনেত্রী বলেন, “ফেমাস হইলে বইল, আমি তোমার ছবি আপলোড করে দিবনে।”
বাদীর অভিযোগ, গত ২৭ অক্টোবর তিশা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাদীর একটি আপত্তিকর ছবি প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে, দুজন নাবালক শিশুর ছবিও প্রকাশ করেন তিনি। এসব ছবি ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে বাদীর সম্মানহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, ওই দিন রাত ১১টার দিকে বিষয়গুলো বাদীর নজরে আসে। পরদিন আইনজীবীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তানজিন তিশাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিসে তা পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে আপত্তিকর ছবি ও তথ্য সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে, অভিনেত্রী সেগুলো অপসারণ করেননি বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
আইনি নোটিশের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ছবি ও তথ্য সরানো না হওয়ায় এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সানায়া আনাম ওয়াফিকা চৌধুরী। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, তা জানা যাবে।